এপ্রিলে বিশ্বব্যাপী বেড়েছে খাদ্যপণ্যের দাম

বিশ্বব্যাপী খাদ্যপণ্যের দাম গত মাসে বেড়েছে। শস্য, মাংস ও দুগ্ধজাত পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এ ঊর্ধ্বগতির পেছনে ভূমিকা রেখেছে।

বিশ্বব্যাপী খাদ্যপণ্যের দাম গত মাসে বেড়েছে। শস্য, মাংস ও দুগ্ধজাত পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এ ঊর্ধ্বগতির পেছনে ভূমিকা রেখেছে। সর্বশেষ মাসভিত্তিক মূল্যসূচক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি বিভাগ (এফএও)। খবর হেলেনিক শিপিং নিউজ ও বিজনেস রেকর্ডার।

এফএওর মূল্যসূচক মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে সবচেয়ে বেশি বাণিজ্য হওয়া খাদ্যপণ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়। সংস্থাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এপ্রিলে বৈশ্বিক খাদ্যপণ্যের গড় মূল্যসূচক দাঁড়িয়েছে ১২৮ দশমিক ৩ পয়েন্টে। এটি মার্চের তুলনায় ১ শতাংশ এবং গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি।

গত মাসে এফএও খাদ্যশস্য মূল্যসূচক মার্চের তুলনায় ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। এ সময় রাশিয়া থেকে রফতানি কমে যাওয়ায় গমের দাম কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী ছিল। সুগন্ধিযুক্ত চালের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে খাদ্যশস্যটির দাম কিছুটা বেড়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে মজুদ কমে যাওয়ায় ভুট্টার দাম ছিল ঊর্ধ্বমুখী।

আন্তর্জাতিক বাজারে বেশ কয়েকদিন ধরেই ঊর্ধ্বমুখী বিশ্বব্যাপী দুগ্ধজাত পণ্যের দাম। গত মাসে এফএও মূল্যসূচকে তা ২ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। এক বছরের ব্যবধানে এটি ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে ২২ দশমিক ৯ শতাংশ। ইউরোপে মজুদ ঘাটতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে মাখনের দাম সর্বোচ্চ রেকর্ড ছুঁয়েছে।

এফএও ভোজ্যতেল মূল্যসূচক এপ্রিলে ২ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। যদিও এটি গত বছরের তুলনায় এখনো ২০ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। এ সময় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে পাম অয়েলের দাম ছিল নিম্নমুখী। তবে বৈশ্বিক চাহিদা বৃদ্ধির কারণে সয়াবিন ও সরিষার তেলের দাম বেড়েছে। গত মাসে সূর্যমুখী তেলের দাম ছিল স্থিতিশীল।

গত মাসে চিনির মূল্যসূচক ৩ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। এর পেছনে ভূমিকা রেখেছে বৈশ্বিক অর্থনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং পানীয় ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কা।

জাতিসংঘের সংস্থাটি ‘সিরিয়াল সাপ্লাই অ্যান্ড ডিমান্ড ব্রিফ’ শীর্ষক পৃথক এক প্রতিবেদনে ২০২৪ সালের সংশোধিত পূর্বাভাস ও ২০২৫ সালের ফসল উৎপাদন সম্পর্কে তথ্য দিয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫ সালে গম উৎপাদন হবে ৭৯ কোটি ৫০ লাখ টন। এ সময় ভারত ও পাকিস্তানসহ এশিয়ার অন্যান্য দেশে রেকর্ড উৎপাদনের সম্ভাবনা আছে। তবে দক্ষিণ ইউরোপ ও উত্তর আফ্রিকার অবস্থার উন্নতি হলেও উত্তর ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্রসহ কিছু দেশে খরার শঙ্কা রয়েছে।

দক্ষিণ গোলার্ধে জমি থেকে দানাদার শস্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে। ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকায় ভুট্টা উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে। তা সত্ত্বেও ২০২৪-২৫ মৌসুমে বৈশ্বিক শস্য উৎপাদন আগের তুলনায় কিছুটা কমতে পারে বলে জানিয়েছে এফএও। যদিও এ সময় বৈশ্বিক চাল উৎপাদন ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ৫৪ কোটি ৩৬ লাখ টনে পৌঁছতে পারে।

আরও